আমরণ অনশনে থাকা ছয় শিক্ষক ঢামেকে ভর্তি

0

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা ছয় শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনশনে থাকা অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্য শিক্ষকরা ধরাধরি করে তাদের ঢামেক হাসপাতালে নেন।
হাসপাতালে ভর্তি করা শিক্ষকরা হলেন- গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার মো. আবু তালেব, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার সালেহা আক্তার, বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার আয়নাল হক, চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ছিদ্দিকুর রহমান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার জাহিদ হাসান। তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা থেকে আসা শিক্ষক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হলে ঢামেকে নেওয়া হয়েছে। অনশনে থাকা আরও অনেকেই অসুস্থবোধ করছেন।’

বেতন বৈষম্য নিরসনে আমরণ অনশন পালন করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তারা এ আমরণ অনশন শুরু করেন। রাত ১১টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় দেখা গেছে, শীতের মধ্যেও পাঁচ শতাধিক শিক্ষক সেখানে অবস্থান করছেন। হাতে গোনা কয়েকটি পলিথিনের তাবুর ব্যবস্থা করা হলেও বেশির ভাগ শিক্ষক ত্রিপল বা পলিথিন বিছিয়ে শুয়ে-বসে আছেন। শীত নিবারণে গায়ে জড়িয়েছেন সঙ্গে নিয়ে আসা পাতলা চাদর। আর যারা তাও নিয়ে আসেননি তারা আন্দোলনে ব্যবহৃত ব্যানার গায়ে জড়িয়ে রাত কাটিয়েছেন। অনেসকেই শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তায় বসে থেকে বা হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটাচ্ছেন।

অনশনের কারণ সম্পর্কে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে এক ধাপ পার্থক্য ছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে এসে দুই ধাপ পার্থক্য সৃষ্টি হয়। ২০১৪ সালে তিন ধাপ পার্থক্য সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে উন্নীত হলেও সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডেই পড়ে রয়েছেন। এছাড়া, প্রস্তাবিত গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের আরেক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেড করার প্রস্তাব রয়েছে। এই বৈষম্য নিরসন না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here