ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

0

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতকাল দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়েছেন যাত্রীরা। ৮ ঘণ্টার বেশি সময় রাস্তায় আটকা পড়েন তারা। কিছু বাসচালক উল্টো পথে গেলে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীতে বুধবার দিবাগত রাত ২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টায় কচ্ছপ গতিতে অতিক্রম করেছে মাত্র দেড় কিলোমিটার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। যানজটে যথাসময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অন্তত ২ রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক যাত্রী ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।

আবু রায়হান চকরিয়া থেকে রাত ১০টায় রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি বাসে উঠেন। শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ১৫.১১০৮ নম্বর বাস। সকাল ১০টায় ঢাকার মতিঝিলে একটি অফিসে পৌঁছে কাজ সারবেন। কিন্তু তার সে আশায় গুড়েবালি। রাত দু’টার দিকে ফেনী পর্যন্ত এসে আটকা পড়েন তিনি। আর বাসের চাকা ঘুরে না। সামনের কয়েকটি বাস আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় যে উল্টো পথে ঢুকে পড়ে। তাতেই রাস্তা বন্ধ। রাত ২টায় এই ঘটনার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত ৮ঘণ্টা ধরে ঠায় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে বাসটি। যানজট শুরুর কয়েকঘণ্টা পর সেখানে পৌঁছে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। তখন এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য যানজট সৃষ্টির প্রথম লাইনে থাকা বাসচালককে ধমকান। বলেন, ‘তোমার এই যানজট সৃষ্টির জন্য সামনে পৃথক অ্যাম্বুলেন্সে দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ওই আট ঘণ্টা সময়ে তার বাসটি কেবল মাত্র দেড় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। লাশ নিয়েও আটকা পড়ে লাশবাহী গাড়ি। ভোর ছয়টায় পৌঁছার কথা থাকলেও অবশেষে বাসটি ঢাকায় পৌঁছে বেলা আড়াইটার দিকে।
যাত্রীদের দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ যানজটে প্রাকৃতিক কাজ সারতে না পেরে নারীরা চরম দুর্ভোগ পোহান। কষ্টে তারা ছটফট করছিলেন। অবশেষে আমার মাথায় এক বুদ্ধি খেলে। এক নারীর গায়ের চাদর খুলে রাস্তায় পাশে কিছুটা আড়াল করে তাদের প্রাকৃতিক কাজ সারার ব্যবস্থা করি। ক্ষুধা এবং পানির পিপাসাতেও কষ্ট পেয়েছেন যাত্রীরা। অপর যাত্রী স্কুলশিক্ষক আবদুর রহমান বলেন, যানজটে আট ঘণ্টার বেশি সময় বসে-দাঁড়িয়ে সময় পার করতে হয়েছে। চরম দুর্ভোগে কষ্ট পেতে হয়েছে। পানি ও খাবারের অভাবে শিশুরা বাসে কান্নকাটি করেছে। আমাদের সামনে যানজটে পড়ে দুই রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কিন্তু তাদের পরিচয় জানতে পারিনি। যানজটের কথা স্বীকার করে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সাধারণত শুক্র ও শনিবার দু’দিন অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় মহাসড়কে কিছুটা যানজট হয়ে থাকে। তার উপর আগামী সোমবার বড় দিনের বন্ধ থাকায় যানজট বেশি দেখা দিয়েছে। এখন তা অনেকটা কেটে গেছে গাড়ির চাকা ঘুরছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here