পথশিশুদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে ‘ইচ্ছেপূরণ’

0

ছিন্নমূল ও পথশিশুদের অপরাধ জগত থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে আসছে সিলেটের ‘ইচ্ছেপূরণ’। রেলস্টেশনে গড়ে তোলা হয়েছে ভাসমান পাঠশালা। যেখানে, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের অক্ষর জ্ঞানের পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে নৈতিক শিক্ষা। একইসাথে, অসহায় মানুষের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন সংগঠনের সদস্যরা। অদম্য বাংলাদেশের গল্পে আজ থাকছে, ‘ইচ্ছে পূরণ’-এর পথচলা।
ট্রেন আসে, ট্রেন যায়। প্লাটফর্মে মানুষের কোলাহল। আবার কখনো যাত্রীশূন্য। নিত্যদিনের চিত্রের বাইরেও সিলেট রেল স্টেশনে দেখা মেলে ভিন্ন কিছুর। স্টেশনেই বেড়ে ওঠা শিশুদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছেন একদল উদ্যামী তরুণ।

সপ্তাহে পাঁচদিন সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শেখানো হচ্ছে বর্ণমালার হরফ। পাঠদানের আগে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। শারীরিক কসরতের পাশাপাশি পাঠ করানো হয় শপথ বাক্যও।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষা ও সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ২০১১ সালে হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী গড়ে তোলেন ইচ্ছা পূরণ। ধীরে ধীরে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে সিলেট ও মৌলভীবাজারে।

শিক্ষা ছড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত চলে রেলস্টেশন পরিচ্ছন্নতা অভিযান। শীত এলেই ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সহায়তার পরশ নিয়ে দাঁড়ায় ইচ্ছাপূরণের সদস্যরা। অসহায় মানুষগুলোর মুখের হাসিই তাদের অনুপ্রেরণা।

সমাজ সেবার এই উদ্যোগকে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ‘জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ‘ইচ্ছাপূরণ’। এ প্রাপ্তিকে, প্রতিটি রেলস্টেশনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ স্কুল স্থাপনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অনুপ্রেরণা দেখছেন সংগঠনের সদস্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here