বেতন বৈষম্য নিরসনে আমরণ অনশনে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

0

প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। এতে মহাজোটের অধীনে থাকা সহকারী শিক্ষক সমাজ, সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, সহকারী শিক্ষক সমাজ-২, সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারি শিক্ষক সমাজ-৩, সহকারী শিক্ষক সমিতি-২, সহকারী শিক্ষক ফোরাম, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক সমিতির চারটি সংগঠন কর্মসূচিতে ঐক্য প্রকাশ করেছে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন উল্লেখ করে শিক্ষকরা বলেন, বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরবো না।

তারা জানান, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা ১০তম গ্রেডে পাচ্ছেন। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিতে ১১তম গ্রেডে বেতন চান।

সহকারী শিক্ষক ফ্রন্টের সভাপতি ইউএস খালেদা আক্তার বলেন, আমরা বৈষম্যের শিকার। আমরা সংবাদ সম্মেলনে আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা পূরণ করা হয়নি। দাবি পূরণ করা ছাড়া আমরা শহীদ মিনার ছেড়ে যাব না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এটা সরকার-বিরোধী আন্দোলন নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা মর্যাদা নিয়ে ক্লাসে ফিরে যেতে চাই। আপনার একটা আশ্বাসই পারে আমাদের সব সমস্যা সমাধান করতে।

সহকারী শিক্ষক ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ফেরদৌসী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলা থেকেই শিক্ষকরা এসেছেন। অনেকে পথে আছেন। কর্মসূচিতে আমরা এক থেকে দেড় লাখ শিক্ষকের সমাবেশ ঘটাব।

শিক্ষকরা জানান, দাবি পূরণে এর আগে উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় পর্যায়ে উপ-পরিচালকদের (প্রাথমিক শিক্ষা) কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু দাবি পূরণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এদিকে আন্দোলনে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জের বিলরাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। হঠাৎ মাথা ব্যথা হওয়ায় তিনি বসা অবস্থা থেকে পড়ে যান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহত অবস্থায় শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, জীবন চেলে গেলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন শিক্ষকরা। জাহাঙ্গীর দুই মেয়ে আর এক ছেলের জনক উল্লেখ করে বলেন, যে বেতন পাই তা দিয়ে আমার চলা কষ্ট হয়ে যায়। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here