‘মানুষের সেবা করার মতো আনন্দের আর কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

0

জাগো বাংলা ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তাদের নির্ধারিত এলাকায় সাধারণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যেসব কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন, স্থানীয় জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের আস্থা অর্জন করুন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস এডমিনিস্ট্রেটিভ একাডেমির ১০২ ও ১০৩তম আইন ও প্রশাসনিক কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে শেখ হাসিনা আরো বলেন, কর্মকর্তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, শুধু ফাইলে সই করাই তাদের দায়িত্ব নয়, বরঞ্চ মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠা ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবশ্যই আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণের দিকে যে দৃষ্টি দিয়েছে কর্মকর্তারা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা জাতির পিতার জীবন থেকে শিক্ষা পেয়েছি যে, মানুষের যত কাছে যাব তাদের জন্য তত বেশি ভালো কিছু করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘মানুষের সেবা করার মতো আনন্দের আর কিছু নেই।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। বঙ্গবন্ধু এসব বৈষম্য থেকে দেশকে মুক্ত করতে সারাটা জীবন কারা নির্যাতনসহ নানা অত্যাচার নির্যাতন ভোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি দেশ স্বাধীনতা অর্জন না করত, তবে আমাদের অনেকেই এ অবস্থানে আসতে পারতাম না’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনপ্রশাসনকে সুদক্ষ করে তুলতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের উচ্চ শিক্ষা অর্জনে অনেক সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতে অগ্রসর হতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামর্থ্য বৃদ্ধিও জন্য একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বশেষ পে-স্কেল গঠনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারিদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করেছে। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের আন্তরিক উদ্যোগের স্বীকৃতিদানে বিভিন্ন পদক চালু করা হয়েছে এবং তাদের সৃজনশীল কার্যক্রমের উত্সাহ প্রদানে একটি উদ্ভাবনী তহবিল গঠন করা হয়েছে।

পদোন্নতি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মূল উদ্দীপক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ১৪৪ জন কর্মকর্তাকে সচিব পদে, ৮৪৩ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে, ১ হাজার ৬৭৩ কর্মকর্তাকে যুগ্ম-সচিব পদে এবং ১ হাজার ৯৮১ জন কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এর আগে এত পদোন্নতি জনপ্রশাসক কখনও দেখেনি। সরকারের বিভিন্ন খাতে সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক এবং একাডেমির রেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান। পরে প্রধানমন্ত্রী একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘আমার বাংলা’ নামে একটি ভিশন ওয়াল উদ্বোধন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here