রবীন্দ্র সরোবরে শিমুলের ৭১টি কবিতা আবৃত্তি

0

ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো শিমুল মুস্তাফার একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান। তিনি আবৃত্তি করেন ৭১টি কবিতা। ‘আপস করিনি কখনই আমি, এই হলো ইতিহাস’— এ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৈকুণ্ঠ একাডেমি। শিমুল মুস্তাফা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, ওপার বাংলার জয় গোস্বামী ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা আবৃত্তি করেন। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অনুষ্ঠান করছেন তিনি।

আয়োজনের শুরুতেই বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমির ছেলে মেয়েদের সঙ্গে শিমুল মুস্তাফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এর পর টানা ২৫টি কবিতা আবৃত্তির পর ১৯৭১ সালের কালরাত্রিকে স্মরণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রজ্বলন করা হয় ১৯৭১টি মোমবাতি। এ সময় উপস্থিত শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠেন ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’ গানটি। এ গান পরিবেশনের পর পরই আবারো শিমুল মুস্তাফার কণ্ঠে শুরু হয় আবৃত্তি পরিবেশনা। রবীন্দ্র সরোবরে উপস্থিত হাজারো মানুষ যোগ দেন এ আয়োজনে।

শেষ হলো ছায়ানটের দশম শুদ্ধ সংগীতের আসর : দশম শুদ্ধ সংগীত উত্সবের দ্বিতীয় দিনের আসর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে শনিবার ভোরে গিয়ে শেষ হয়। ছায়ানটের শিল্পীদের কণ্ঠে সমবেত রাগ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ওস্তাদ অসিত দের পরিচালনায় শিল্পীরা রাগ পুরিয়াকল্যাণ পরিবেশন করেন। এরপরে ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় পরপর ছিল বৃন্দ তবলা বাদন ও বেহালাবাদন। সমবেত পরিবেশনার পর কণ্ঠ সংগীত নিয়ে আসেন ঢাকার শিল্পী শ্রাবন্ত্রী ধর। তিনি রাগ মুলতানী পরিবেশন করেন। এরপরেই ছিল মো. মনিরুজ্জামানের বাঁশিবাদন পরিবেশনা। তিনি রাগ পটদীপ বাজিয়ে শোনান। চট্টগ্রামের দোলন কাননুনগো গেয়ে শোনান রাগ পুরিয়াকল্যাণ, শেখর মন্ডল পরিবেশন করেন রাগ মারবেহাগ। এরপরে নওগাঁর শিল্পী বিপুল কুমার পরিবেশন করেন রাগ বেহাগ। শিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী পরিবেশন করেন রাগ দুর্গা। সবশেষে ওস্তাদ অসিত দে’র পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের শুদ্ধ সংগীতের এ আসর।

গ্যালারি চিত্রকে ‘কালারস অফ ইয়ুথ’ : দেয়াল জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ক্যানভাস। তরুণ চিত্রকরদের রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রস্ফুটিত হয়েছে সেসব চিত্রপট। উঠে এসেছে বিচিত্র বিষয়। সেসব ছবি নিয়ে গতকাল ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রকে শুরু হলো যৌথ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। ৩২ তরুণ চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবিতে সজ্জিত এ প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘কালারস অফ ইউথ’।

চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিত্ রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাস্কর অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান এবং খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী অধ্যাপক আবুল বারক্্ আলভী ও শহিদ কবির। তরুণ শিল্পীদের নানা মাধ্যমে আঁকা শতাধিক চিত্রকর্ম ঠাঁই পেয়েছে প্রদর্শনীতে। ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান এ প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

চারুকলায় ‘আমার চোখে ঢাকা’ : শিশুদের হাতে ক্যামেরা। আর তা দিয়ে তারা তুলেছে প্রিয় শহর ঢাকার স্থাপনা আর যাপিত জীবনের চিত্র। সেসব আলোকচিত্র নিয়ে শিশু-কিশোর পত্রিকা দুরন্ত আয়োজন করেছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ফোকাসিং ঢাকা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে শুরু হয়েছে এ প্রদর্শনী।

গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, আলোকচিত্রী নাফিস আহম্মেদ নাদ্্ভী প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here