রোহিঙ্গাদের জন্য তিন দেশে ডিজিটাল পরিচয়পত্র

0

বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে ‘ব্লক চেইন’ প্রযুক্তির ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি সংগঠন। এর নাম ‘দ্য রোহিঙ্গা প্রজেক্ট’। ওই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাতে সেবা নিতে পারবেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় ‘দ্য রোহিঙ্গা প্রজেক্ট’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা কাইরি এন্দ্রিউ বলেন, ২০১৮ সালে উপরোক্ত দেশে আশ্রয়গ্রহণকারী প্রথম ১০০০ রোহিঙ্গার মধ্যে ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে। এন্দ্রিউ বলেন, রোহিঙ্গাদের জীবন বস্তুত আবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই।
উল্লেখ্য, সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘটিত নৃশংসতায় পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের নাগরিক স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। ২৫শে আগস্ট আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)-এর উগ্রপন্থিরা হামলা চালায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৩০টি ক্যাম্পে। এতে সেনা সদস্য সহ নিহত হয় ১১ নিরাপত্তারক্ষী। এর প্রতিশোধ নিতে রোহিঙ্গাদের ওপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ এবং নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং উগ্রপন্থি বৌদ্ধরা। দ্য রোহিঙ্গা প্রজেক্টের হিসাবমতে, পৃথিবীজুড়ে মোট ৪০ লাখের কিছু বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। এদের বেশির ভাগই নিজেদের মাতৃভূমি মিয়ানমার ছেড়ে অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব বিষয়ক একটি আইন করে মিয়ানমার। ওই আইনের অধীনে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয় বলে ঘোষণা করে দেশটি। এরপর থেকেই রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে রোহিঙ্গারা।
প্রসঙ্গত, ব্লক চেইন একটি বিশেষ প্রযুক্তি যার মাধ্যমে প্রকৃত রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে তাদেরকে একটি বিশেষ কমিপউটার নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল আইডি বা পরিচয়পত্র দেয়া হবে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সেবাও।
এ প্রসঙ্গে দ্য রোহিঙ্গা প্রজেক্টের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ নুর বলেন, কয়েক দশক ধরে কাঁদতে থাকা রোহিঙ্গাদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি আমরা। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে মালয়েশিয়ায় যাওয়া মুহাম্মাদ নুর নিজেও একজন রোহিঙ্গা। তিনি বলেন, ডিজিটাল পরিচয়পত্রের প্রকল্পটি রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আলোর দিশা। কয়েক বছরে এমন প্রকল্প মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী সংস্থা নভেম্বরে বলেছে, পৃথিবীব্যাপী ১ কোটি রাষ্ট্রহীন সংখ্যালঘুর মধ্যে রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। তাদের নেই কোনো পরিচয়, অধিকার। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজও করতে পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here