শিশুরা বেড়ে ওঠে যেখানে

0

জাগো বাংলা ডেস্ক:
চাকরিজীবী বাবা-মা সবসময়ই চেষ্টা করেন কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার আগে সন্তানকে নিরাপদে রেখে যেতে। সে কারণেই ডে কেয়ার সেন্টারের শরণাপন্ন হন তারা। আজকের গল্পটি একটি ডে কেয়ার সেন্টারের।

২০০১ সালের কথা। ফারহানা আহমেদ সবেমাত্র গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ও ফ্যামেলি রিলেশনশিপ বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ভাবছেন শিশুদের নিয়ে কিছু একটা করবেন। এরই মধ্যে চাকরি পেয়ে যান আইসিডিডিআরবিতে। পরে ব্যক্তিগত কারণে ছেড়ে দেন চাকরি। ২০১৫ সালে আবার শিশুদের নিয়ে কিছু করার বিষয়ে ভাবতে থাকেন। এসময় পাশে পেয়ে যান আরেক সহকর্মী সুপ্তি জিন্নাতকে। মিলে যায় দুজনের ভাবনা। ঠিক করে ফেলেন একটি ডে কেয়ার সেন্টার করবেন। শুরু করেন এই নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা। ধানমন্ডির ১১ নাম্বার রোডে সানসাইন নামের ডে কেয়ার সেন্টারটি ২০১৬ সালে চালু করেন ফারহানা। শুরু থেকেই ফারহানা ও জিন্নাত সারাদিন সময় দিয়ে যাচ্ছেন এখানে। তৈরি করেছেন নিজেদের স্বপ্ন। কাজ করছেন শিশুদের নিয়ে।

ব্যস্ত অভিভাবকরা নির্ভয়ে সানসাইনে তাদের সন্তানকে রেখে কাজে যাচ্ছেন। বর্তমানে এই এখানে ১৫ জন শিশু আছে। জিন্নাত শিশুদের জন্য তৈরি করেন ডায়েট চার্ট। শিশুর সারাদিনের পরিচর্যায় আছে ৫ জন কর্মী।

ফারহানা বলেন, ‘এখানে আসা প্রতিটি শিশুর সারাদিনের শুধু সময় ব্যয় করাটা আমাদের কোনও উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাই আমাদের এখানে আসা প্রতিটি শিশু যেন পরিপূর্ণ শিক্ষা পায়। সেই সাথে যেন নৈতিক শিক্ষার কোনও কমতি না থাকে। এজন্য আমরা গান শেখানো ও ছবি আঁকার ব্যবস্থা রেখেছি। বই থেকে গল্প পড়ে শোনাই আমরা। সবর্দা গেজেট গুলো থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি। অভিভাবকরা সহজে সন্তুষ্ট রাখার জন্য বর্তমানে সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিভিন্ন গেজেট। এটা একদমই ঠিক নয়। আমরা তৈরি করেছি গেজেট বিহীন এক শিক্ষণীয় পরিবেশ। এক বছরের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি মোটেও কোন খারাপ ফলাফল আসেনি। বরং সন্তুষ্ঠ হয়েছেন অভিভাবকরা।’
‘ফিজিক্যাল হেলথ কেয়ার শিশুর জন্য খুবই জরুরি। যেটা না হলে একটা শিশু আমাদের পরিবেশের সাথে সহজে মিশতে পারে না। কিন্তু, আমাদের অভিভাবকরা ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি গুলো থেকে দূরে রাখে শিশুদের। ফলে আমাদের নতুন প্রজন্মরা সামান্য রোদ-বৃষ্টিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য আমাদের ডে কেয়ারে আসা শিশুদের মাটি-বালি দিয়ে ইচ্ছেমত খেলতে দিই। বিকেলে পার্কে খালি পায়ে হাঁটাই’- বলেন ফারহানা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here