২০১৭ সালে নিখোঁজ ৯১, সন্ধান মেলেনি ২৬ জনের

0

২০১৭ সালে সারা বাংলাদেশে ৯১ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন, এর মধ্যে ৬৫ জনের সন্ধান এখনো মেলেনি।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার হন ৬০ জন। এর মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়, আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, পরিবারের কাছে ফেরত আসে সাত জন। বাকি ৪৩ জনের খোঁজ মেলেনি এখনো।

পাশাপাশি ‘রহস্য জনক’ নিখোঁজের সংখ্যা আরো ৩১ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। তাদের মধ্যে ৯ জন ফেরত এলেও তাদের ছয় জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; পরিবারের কাছে ফেরত গেছেন তিনজন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি করা এই প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময় ও হেফাজতে মোট ১৬২ জন নিহত হন। এর মধ্যে ‘ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ও গুলিবিনিময়ে’ নিহত হন ১২৬ জন।

এই বিষয়ে আরো বলা হয়েছে, বাকিদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে ১২ জন, গ্রেপ্তারের আগে ও পরে ১৮ জন, গ্রেপ্তারের পর আত্মহত্যায় একজন, অসুস্থ হয়ে চারজন এবং একজনের রহস্ যজনক মৃত্যু হয়। কারাগারে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ৩৩ জন হাজতি ও ২০ জন কয়েদি ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের ২১২টি প্রতিমা, ৪৫টি বাড়ি-ঘর ও ২১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় একজন নিহত ও ৬৭ জন আহত হন। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিক, লেখকসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি, সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা ১২২ জন সাংবাদিক শারীরিক নির্যাতন, হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এই বছর ২৫৫ জন নারী যৌন হয়রানিসহ সহিংসতার শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ১২ জন নারী আত্মহত্যা করেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিন নারীসহ ১৩ জন খুন হয়েছেন, বখাটেদের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৬৮ জন ও চার মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়া সারাদেশে ৮১৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যা ২০১৬ সালের চেয়ে বেশি। গত বছর ধর্ষণের শিকার হন ৬৫৯ জন।

প্রতিবেদনটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করে আসকের সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, ২০১৭ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল চরম উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনার পাশাপাশি এই বছর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিখোঁজ হবার ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক রওশন জাহান পারভীন ও নীনা গোস্বামী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here