আর কত বয়স অইলে মুই বয়স্ক ভাতা পামু ?

0

আর কত বয়স অইলে মুই বয়স্ক ভাতা পামু? বানারীপাড়ার শতবর্ষী অমৃতা হালদারের এ প্রশ্ন হৃদয়কে আন্দোলিত করে। না পাওয়ার বেদনা মিশ্রিত তার এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলেও একজন সংবাদকর্মী হিসেবে পত্রিকার পাতায় তা তুলে ধরে তৃনমুল থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্থানকে জানিয়ে বিবেককে নাড়া দেওয়ার সুয়োগ রয়েছে।তাইতো জীবন সায়াহেৃ দাঁড়িয়ে শতবর্ষী এ বিধবা বৃদ্ধার জীবন সংগ্রামের করুন কাহিনী নিয়ে আজকের এ লেখনী। অমৃতা হালদার। তার মতে তার বয়স শত বছর ছাড়িয়েছে।প্রিয়তম স্বামী মনিন্দ্র হালদারকে হারিয়েছেন প্রায় দেড় যুগ আগে। স্বামীকে হারিয়ে তার দরিদ্র সংসারে দারিদ্রতা আরও বহুগুন বেড়ে যায়।একমাত্র ছেলে সুখেন্দ্র হালদার শারিরীক ভাবে এতটা অসুস্থ যে তার পক্ষে কোন কাজ করা সম্ভব নয়।

ফলে নিরুপায় হয়ে স্বামীর ভিটা ছেড়ে অমৃতাকে ভিক্ষার ঝুঁলি হাতে নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়।অতিশপর এ বৃদ্ধা লঞ্চে ভিক্ষা করতে করতে বানারীপাড়া থেকে ঢাকায় চলে যান আবার ভিক্ষা করতে করতে এলাকায় ফিরে আসেন।রোদ,ঝড়,বৃষ্টি ও শীতকে উপেক্ষা করে পথে প্রান্তরে প্রতি দিন এভাবেই তার ভিক্ষা বৃত্তি চলে।তার ভিক্ষার চাল ও টাকায় অসুস্থ ছেলে,প্রতিবন্ধি নাতনি ও ছেলের বউ সহ ৪ সদস্যের দরিদ্র সংসার চলে।একদিন ভিক্ষা না করলে তার ঘরে উনুন জ্বলেনা। বয়সের ভারে ন্যুজ অমৃতা হালদার তার ভিক্ষা বৃত্তিতে মাঝে মাঝে ৯ বছর বয়সী প্রতিবন্ধি নাতনীকেও সঙ্গী করেন। স্বামীর ভিটা পাশ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হারতা এলাকায় হলেও ৮ বছর ধরে তিনি বানারীপাড়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে জনৈক শাহ আলম সরদারের জীর্ণকার বাসায় মাত্র ৫শত টাকায় ভাড়া থেকে ভিক্ষা করে সংসার চালান।শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের উত্তরপাড় বাজার এলাকায় বৃদ্ধা অমৃতা হালদারকে ভিক্ষা করতে দেখে তিনি বয়স্ক ভাতা পান কিনা প্রশ্ন করলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানান বয়স্ক ভাতা তো দূরের কথা শীত নিবারণের জন্য তার একটি কম্বলও নেই।

নূন্যতম সরকারী কোন সাহায্যই তার ভাগ্যে জুঁটেনি। স্থাণীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ প্রতিটি নির্বাচনে তিনি ভোট কেন্দ্রে ছুটে যান তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে।প্রতিবার নির্বাচনের প্রাক্কালে ভাতা দেওয়া সহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পরে জনপ্রতিনিধিরা আর তার খোঁজ রাখেননা। অথচ অনেক সময় রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি ‘প্রিয় প্রতীকে’ ভোট দিতে প্রতিবার ছুঁটে গেছেন ভোট কেন্দ্রে।। তার ঐকান্তিক বিশ্বাস তার এ যাপিত জীবনের কাহিনী মানব দরদী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে পারলে অবশ্যই তার পাশে দাঁড়িয়ে দুঃখ-দূদর্শা থেকে তাকে মুক্ত করে দিবেন।এদিকে তার এ করুন কাহিনী শোনার মূহুর্তে সেখান থেকে পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল হেঁেট যাচ্ছিলেন।

তাকে তার বাসার পাশে ওই বৃদ্ধা ভাড়া বাসায় বসবাস করে ভিক্ষাবৃত্তি করা ও ভাতা সহ নূন্যতম সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি ওই বৃদ্ধাকে তাৎক্ষনিক একটি কম্বল কিনে দিয়ে ভাতার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানান।মেয়রের তাৎক্ষনিক এ মহানুভবতায় বৃদ্ধার সাময়িক শীত নিবারণের ব্যবস্থা হলেও সহৃদয়বান কোন ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়ালে পথে-প্রান্তরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করে তাকে আর জীবনের অন্তিম মুহুর্তে জীবন নামের রেল গাড়িটা চালাতে হবে না। আমরা কি পারিনা বৃদ্ধার জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাকে একটু সুখের পরশ দিতে ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here