ঢাকায় আওয়ামী লীগ বিএনপির লড়াই

0

কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। শিগগিরই তফসিল ঘোষণা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬শে ফেব্ররুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন। এমনটাই জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব। অনিশ্চয়তার পুরো মেঘ যদিও এখনো কাটেনি। তবে সম্ভাবনা বাড়ছে দিনকে দিন।

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় ভোট যুদ্ধ হবে রাজধানী ঢাকাতেই। আনিসুল হকের আকস্মিক মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এ নির্বাচনকে নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সামনে আরো কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর মধ্যে ঢাকার নির্বাচনই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এ নির্বাচন প্রধান রাজনৈতিক জোট এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য এসিড টেস্ট হিসেবে দেখা দিবে। কোনো জোটই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে আওয়ামী লীগ থেকে এরই মধ্যে সবুজ সংকেত পেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছেন তিনি। তার পক্ষে পোস্টার-ব্যানার টানানো হয়েছে অনেক জায়গায়। আতিকুল ইসলাম নিজেও রয়েছেন ভোটের প্রচারণায়।

প্রতিদিনই তিনি কথা বলছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকায় ভোটের মাঠে এখনো কোনো প্রার্থীর দেখা মিলেনি। এটা অবশ্য গত এক দশক ধরেই দলটির রাজনীতির ট্রেডমার্ক। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সবার পেছনে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না থাকলেও অথবা প্রচার-প্রচারণায় না থাকলেও বিএনপি প্রার্থী হিসেবে তাবিথ আউয়ালের নামই উচ্চারিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। গত নির্বাচনে তিনি চমক দেখিয়েছেন। ভোটের দিন মাঝ পথে নির্বাচন বর্জন করলেও হেভিওয়েট প্রার্থী আনিসুল হকের সঙ্গে লড়াইয়ে বেশ ভালো ভোটই পেয়েছিলেন তাবিথ। এবারও খুব বড় কোনো পরিবর্তন না ঘটলে তিনিই বিএনপির প্রার্থী হবেন। তার পিতা এবং বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুও কয়েকদিন আগে এমনটাই বলেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামায়াত ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী দিচ্ছে। দলটি এরই মধ্যে সেলিম উদ্দিনকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে।

ঢাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ ভোটযুদ্ধের আলামত এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এটা বলার প্রয়োজন নেই যে, মূল লড়াইটা হবে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে। এ লড়াইয়ে জিতবেন কে? ভোট কেমন হবে? গায়েবি? নাকি অবাধ ও সুষ্ঠু? নানা প্রশ্ন এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। রংপুর পরীক্ষা নির্বাচন কমিশন ভালোভাবেই উতরাতে সক্ষম হয়েছে। তবে রংপুর এবং ঢাকার দূরত্ব অনেক। ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জটাও তাই অনেক বেশি বড়। রংপুরে ভোটের মাঠে লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে। মহাজোট সরকারে জাতীয় পার্টিও অংশ। যে কারণে ভোটের মাঠে তেমন কোনো উত্তাপ ছড়ায়নি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ঢাকায় কারো জয়ই এতটা সহজ হবে না। দুটি প্রধান জোটের যে দুই প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তাদের কেউই ক্যারিয়ার পলিটিশিয়ান নন। ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলামের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় নেই। তাবিথ আউয়াল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেও মূলত ব্যবসায়ী। আতিকুল এবং তাবিথের মধ্যে শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। তবে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, ২৬শে ফেব্রুয়ারির আগে রাজনীতির মাঠে পরিবর্তনও হতে পারে। কারণ এর আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা হতে পারে। এ রায়ের পর রাজনৈতিক পটভূমি কেমন থাকবে বলা মুশকিল।

ভোটের প্রচারণায় সরব আতিকুল ইসলাম। সম্প্রতি মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আনিস ভাইয়ের মতোই আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। আনিস ভাইয়ের মেয়র নির্বাচনের আগে তার অনেক পরিকল্পনার সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম। তার পরিকল্পনাগুলোর পাশাপাশি নতুন যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলোর সমাধান করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবো। তবে মূল কথা হলো- নিজের নিরলস প্রচেষ্টা, আওয়ামী লীগের সমর্থন ও প্রধানমন্ত্রীর দোয়া থাকলে যেকোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা লাগবে। কারণ কোনো কাজই একা সম্ভব নয়। সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, মেয়র হলে আমার চেষ্টা থাকবে নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালানো। সবাই মিলে কাজ করলে একটি আধুনিক ঢাকা উপহার দেয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি।

৫ই জানুয়ারির বার্ষিকী পালন হয়েছে গতকাল। চার বছরে রাজনীতির চিত্রে তেমন কোনো বদল হয়নি। আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য বহাল আছে। ঢাকায় ভোটে কি সে ধারাবাহিকতাই রক্ষা হবে। না, বিএনপির প্রত্যাবর্তন ঘটবে। দেখার জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here