কাশ্মিরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী গ্রেফতার

0
ওমর আব্দুল্লাহ (বাঁয়ে) এবং মেহবুবা মুফতি (ডানে)

জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৫ আগস্ট) তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে তাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়। 

মেহবুবা মুফতিকে শ্রীনগরের বাড়ি থেকে সরকারি গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তিনি শুরু থেকেই জম্মু-কাশ্মিরের সংরক্ষিত ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিল পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলেও কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মেহবুবা। জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন তুলে নিয়ে সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন জারির ঘটনাকে ‘ইতিহাসের সব থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন,  এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সেখানকার মানুষের মধ্যে জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়বে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ভারত ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মেহমুবা।  

এদিকে, গ্রেফতার হওয়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহও শুরু থেকে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্ত্বশাসন বাতিলের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বায়ত্ত্বশাসন বাতিলের সিদ্ধান্তকে কাশ্মিরের জনগণের সঙ্গে ভারতের চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি করে বলেছেন, এর ফল হবে বিপজ্জনক। সরকারি সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলেও সোমবারে বিবৃতিতে দিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ। গ্রেফতারের পর সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা উপত্যকার প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি। 

সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি ছাড়াও কাশ্মিরের আরো দুই নেতা সাজ্জাদ লোন এবং ইমরান আনসারিকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে তাদের বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে জম্মু-কাশ্মিরকে যে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেয়া হয়েছিল সেটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাজ্যসভা এবং জম্মু-কাশ্মিরকে ভেঙ্গে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। রাজ্যসভার এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মিরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ভারতের বিরোধী দলীয় নেতারা। (সূত্র: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা)   

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here