সাতক্ষীরায় জৈব সারে নারীদের মুখে ফুটছে হাসি

0

সাতক্ষীরায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষিক্ষেত্রে জৈব সারের ব্যবহার। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয় নারীরা ঘরে বসেই তৈরি করছে কম্পোজ সার। এতে অনেক নারী সার উৎপাদন করে প্রতিমাসে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করছেন তারা।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় তিন থেকে চার মাস আগে এই গ্রামের ৯জন নারী কেঁচো সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ পান। স্বল্প পরিসরের প্রশিক্ষণের পর থেকেই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের শুরু। বাড়ির আঙ্গিনায় পড়ে থাকা সার উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ গোবর, কেঁচো বিশেষ প্রক্রিয়ায় ২৫-৩০ দিনে তৈরি হয় কম্পোজ সার বা কেঁচো সার। গৃহস্থালি কাজের বাইরে তেমন কোন বিনিয়োগ ছাড়াই ঘরে বসেই অর্থ উপার্জনের পথ খুলে যায়। ১০ থেকে ১২ টাকা দরে সার বিক্রি করে প্রথম মাসেই আয় প্রায় দুই হাজার টাকা। স্বল্প সময়ে এই সারে কৃষকদের মধ্যে চাহিদাও বাড়তে থাকে। এখন বাড়ছে প্রতিমাসে উৎপাদন বাড়ছে উপার্জনের অংক। তাদের দেখে আশপাশের অনেকেই নারী এখন উৎসাহী হচ্ছেন সার উৎপাদনে।

জৈব সার চাষ করা এক নারী জানান, এই সার উৎপাদন করে প্রতি মাসে আমার তিন থেকে চার হাজার টাকায় আয় হয়েছে।

খাদ্য,কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সমন্বয়ক এ জে এম সফিকুল ইসলাম বলেন,  আমাদের জমিতে কেঁচো কম্পোজ, গোবর সার ব্যবহার করি তাহলে দেখা যাবে; জমির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে।

কোন রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া না থাকায় আশপাশের এলাকার কৃষরা ঝুঁকছেন কম্পোজ সারে ব্যবহারে। সবধরনের ফসলে ব্যবহার করে তুলনামূলক ভালো ফলন পাচ্ছেন। এতে রাসায়নিক সারের চেয়ে তুলনামূলক খরচও বেশ কম।

জৈব সার ব্যবহার করা কৃষকরা জানান, ‘জৈব সারের দামও কম। আর রসায়নিক সারের চেয়ে এর উপকারও অনেক বেশি।’

জেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কম্পোজ সার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তারা।

সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের কৃষি উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘জৈব সারের জন্য করার জন্য বিভিন্ন রকমের প্রদর্শনী করা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের মাঠ-কর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।’

জৈব সারের ব্যবহার দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলে মাটির সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত এই কৃষি কর্মকর্তার।

দেশকে এগিয়ে নিতেই অংশগ্রহণ মূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here