রক্তখেকো জাতি চাইয়েদিনা

0

সমগ্র পৃথিবীতে আছে অদ্ভুত সব জাতি। কোনো জাতি তাদের বুদ্ধি বিকাশের সুবাদে টিকে আছে আবার কোনো জাতি কালের পরিক্রমায় বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে আবার যুদ্ধময়দান থেকেই হারিয়ে গেছে। এ রকমই এক অদ্ভুত জাতি হলো চাইয়েদিনা। চাইয়েদিনাদের মৃত্যুর পর তাদের সব ধন সম্পদসহ কবর দেয়া হতো। এদের কবরকে কুরগান বলা হতো। এই নিষ্ঠুর যোদ্ধারা তাদের শত্রুদের শুধু খুন করে ক্ষান্ত হতো না বরং তাদের মাথার খুলিতে করে মদ খেত। কাঁচা মাংস খেত। অথচ এই নিষ্ঠুর যোদ্ধাদের ছিল এক আশ্চর্য শিল্পীসত্তা।

খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে চাইয়েদিনারা রাশিয়ার নাভানা এবং মধ্য রাশিয়া অঞ্চলে একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করছিল। তাদের সম্বন্ধে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। তাদের আদি নিবাস সম্বন্ধেও কিছু জানা যায়নি। তাদের সমাধি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন স্বর্ণ নির্মিত মূর্তি আর অন্য বস্তুগুলোই ছিল তাদের জানার এক মাত্র সূত্র।

তারা ছিল অশিক্ষিত, বর্বর, নিষ্ঠুর আর ভয়ঙ্কর এক যোদ্ধা জাতি। তারা ছিল দুর্দান্ত এক অশ্বারোহী নিপুণ তিরন্দাজ। ঘোড়ায় বসা অবস্থায় মাটি থেকে তাদের উচ্চতা ছিল কমপক্ষে ৮ ফুট।

চাইয়েদিনাদের নিয়ম ছিল শত্রু নিধনের পর শত্রুর মাথা থেকে খুলির চামড়া সরিয়ে ভেতরের মগজ বের করে সেই রক্তাক্ত খুলিতে করে মদ পান করা।

চাইয়েদিনারা তাদের মৃতদেহ, বিশেষ করে রাজাদের অনেকটা মিসরের রাজাদের অনুকরণ করত। প্রথমে তারা মৃতদেহের পেট কেটে সেখানে পচনশীল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বের করে পরিষ্কার করে সেখানে নানা সুগন্ধি ভরে সেলাই করে দিত।

এভাবে তারা পুরো দেহকে মোম দিয়ে ঢেকে দিত। সবশেষে চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে কবরে নামাত। রাজাদের সঙ্গে তাদের স্ত্রী, ভৃত্য, অশ্বারোহী জ্যান্ত কবর দিত। এরপর একটা ভারী কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে দেয়া হতো। কবরের ওপর এমনভাবে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হতো। এই কবরগুলোকে দেখা যেত ঠিক মাটির ঢিবি। এরপর প্রধান পুরোহিত ছাড়া সবাইকে মেরে ফেলা হতো। সম্ভবত এই কারণেই এত দীর্ঘদিন চাইয়েদিনাদের সমাধি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে ছিল।

চাইয়েদিনারা টিকে ছিল প্রায় ৪০০ বছর। এরপর সুমেত্রা জাতির হাতে তারা ধ্বংস হয়। কিছু চাইয়েদিনা পালিয়ে যায় রোমানিয়া, কিছু যায় ইরাক, কিছু ক্রিমাইস অঞ্চলে। সেখানে গিয়ে তাদের রাজত্ব আবার প্রতিষ্ঠা করে।

মানুষের রক্তখেকো এই জাতি সোনার নিপুণ কারিগর ছিল, যা তাদের কবরে পাওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here