অবশেষে বাস্তবায়নের পথে মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

0

দ্রুত বাস্তবায়নাধীন বা ফার্ষ্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে অগ্রগতি কিছুটা কম হলেও, নানা অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আগামী ২৫ জানুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রকল্পটির মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরই মধ্যে এই প্রকল্পের ১৮ শতাংশ কাজ শেষ জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন পরবর্তীতে এখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপিত হলে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তায় মজবুত ভিত্তির সোপান হবে এই উদ্যোগ।

কক্সবাজারে সমুদ্র তটের প্রত্যন্ত উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি ইউনিয়ন। দেশের স্থল ভাগের এই প্রান্তসীমায় গড়ে তোলা হচ্ছে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

উন্নয়ন সহযোগী জাপানি সংস্থা জাইকা’র অর্থায়নে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটি ২০১৪ সালে সরকার অনুমোদন দিলেও, দরপত্র প্রক্রিয়া ও গেলো বছরের হলি আর্টিসানে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ ব্যাপক ভাবে হোঁচট খায় জাপানি প্রকৌশলীদের নিরাপত্তার আশঙ্কায়।

অবশেষে প্রকল্প এলাকায় প্রাণ ফিরেছে। জাইকা’র প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠছে বৃহৎ এই প্রকল্প। যেখানে আমদানি করা কয়লা পুড়িয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পটি উৎপাদনে আসবে জানিয়ে জাপানের প্রতিনিধিরা বলছেন পরিবেশগত ঝুঁকি প্রশমন করেই গড়ে তোলা হচ্ছে এটি।

জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইউজুমি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পেরে জাপান সরকার অত্যন্ত খুশি। প্রকল্পটির কারণে যাতে পরিবেশগত ঝুঁকি না থাকে, সেদিকটা বিবেচনাতে নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’

বাংলাদেশে জাইকা’র প্রধান প্রতিনিধি তাকাতোশি নিশিকাতা বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো দেশে জাইকার বিনিয়োগের ইতিহাসে এই প্রকল্পের অর্থায়ন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এটি সময় মতো উৎপাদনে নিয়ে আসতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

১ হাজার ৪’শ ১৪ একর এই জমিকে জ্বালানি খাতের বহুমুখী উৎপাদনের উপযোগী করা হচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন- ভূমি অধিগ্রহণের ফলে বেকার জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে কোনো জটিলতা নেই।

নানা পরিক্রমায় প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও, অবশেষে আগামী ২৫ জানুয়ারি মাতারবাড়ি এনার্জি হাবের মূল নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

ভৌগলিক ভাবে বঙ্গপোসাগর সংলগ্ন কক্সবাজারের মহেশখালীর এই চ্যানেলটি কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের কাছে। আগামীতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা মোকাবেলায় মহেশখালীর এই মাটি থেকেই উৎপাদিত হবে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, বাংলাদেশে যেসব কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে তার কয়লা এখান থেকেই সরবরাহ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here