ওদের রুখবে কে?

0

ছিনতাই একটি আতঙ্কের নাম। বর্তমানে ছিনতাই শুধু আর ছিনতাইতেই থেমে নেই, রূপ নিয়েছে হিংস্রতায়। আর সবথেকে বড় ব্যাপার হলো, ছিনতাইকারীদের সংঘবদ্ধতা। দেখা যায়,  কোথাও ছিনতাই হচ্ছে আর আশপাশের সবাই দেখছে। চোখ দিয়ে দেখেও কেউ এগিয়ে আসে না। পরবর্তীতে দেখা যায়,  তারা একই গুরুপের,  সংঘবদ্ধ হয়ে আসা। এলাকা ভিত্তিক গুরুপ বা সংগঠন থাকে ওরা।

গেল ২৮ নভেম্বর, মঙ্গলবারের ঘটনা। সময়টা বিকেল ৩.৩০ থেকে ৩.৪৫ এর মধ্যে। রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটের ব্যস্ত রাস্তা। রেলগেট থেকে বৌদ্ধমন্দিরে যাব। সাধারণত বাসটাকেই প্রধান বাহন হিসেবে ধরা হয়। তাই বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।

আধা-ঘন্টার ওপর দাঁড়িয়ে থেকে শেষে অনেক যুদ্ধ করে একটা বাসে উঠতে পারলাম। উঠতে উঠতেই খেয়াল করলাম,  বাসের প্রথম সিটে বসে থাকা একজন নিচে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলের সঙ্গে হাতাহাতি করছেন।
বাসের লোকটি নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নেশাখোরের মত দেখতে ছেলেটার সঙ্গে চিল্লাচ্ছেন আর বলছেন,  তুই এই মেয়ের ব্যাগে হাত দিলি কেন?  আর ওই ছেলে নাক-মুখ লাল করে ঝগড়া করছে।

হঠাৎ আমি বুঝতে পারি ওই ছেলেটা আমার ব্যাগে হাত দিতে গেছিলো,  সেটা ওই লোক দেখছিলেন এবং এজন্যই প্রতিবাদ করছেন। এবার আমি ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ প্রচণ্ড ধাক্কা এসে আমার শরীরে লাগে। আর আমি চোখ তুলে তাকাতেই দেখি বাসের ওপরের লোকটা পুরো রক্তাক্ত হয়ে আমার শরীরে এসে পড়েছেন। এত রক্ত মনে হয় আমি জীবনে দেখিনি।

এত রক্তপাত দেখে আমার মাথা ঘুরা শুরু হলো। কিছু লোক আমাকে উঠিয়ে দাঁড় করলো,  আর কিছু লোক আক্রান্ত ওই লোককে ওঠালো। ততক্ষণে আমি বুঝতে পারলাম, নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা কিছু একটা ধারালো বস্তু দিয়ে ওই লোকের বুক থেকে পেট পর্যন্ত ফেড়ে ফেলেছে মুহূর্তেই। সব থেকে বড় ব্যাপার,  এত বড় অপরাধ করেও বখাটে ছেলেটার চেহারায় কোনো ভয়-ভীতি ছিলো না। সে দিব্যি হেঁটে চলে গেলো। কেউ এগিয়ে এলো না। ওই ছেলেটাকে ধরার চেষ্টা তো দূরের কথা।

পরে বাস ছেড়ে দিলে আহত লোককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এতবড় একটা ঘটনা মুহূর্তেই ঘটে গেলো,  বাসের সবাই দেখলো। কেউ এগিয়ে এলো না। এলো শুধু ওই লোকটা। একজনের উপকার করতে গিয়ে নিজেকে আহত হতে হলো তাকে। ছিনতাইকারীদের এই দৌরাত্ম আর অসদাচরণের মূল কারণ কী? কেন তাদের মধ্যে কোন ভয়-ভীতিটুকু নেই?  আর একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই মানুষ খুন কিংবা আহত করতে এরা পিছপা হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here