ভালো নেই প্রতিবন্ধী ও অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষকরা

0

ডেস্ক রিপোর্ট : ইনক্লুসিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা প্রতিবন্ধী ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য কিন্তু এখানে শুধু অসহায়রা ছাড়াও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেলার সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৬টি আবাসিক প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোররা। কিছু দানশীল ব্যক্তি ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় বিদ্যালয়টি মোটামুটি চললেও দিনের পর দিন বেতন না পেয়ে ভালো নেই শিক্ষকরা। কোনো কোনো শিক্ষক আছেন বেতন না পেয়েই কাজ করছেন। এ অবস্থায় তারা এমপিওভুক্তির মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ৬টি আবাসিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে বাগবাড়ি সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) ১৭৫ জন, রায়নগর সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ১০০ জন, বাগবাড়ি ছোটমণি নিবাসে ১০০ জন এবং সরকারি বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ১২০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি সেফ হোমও পরিচালিত হচ্ছে সমাজসেবার অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ বিলাল অসহায় এসব নিবাসী শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনি সরকারি তহবিল ছাড়াও বিত্তশালী বেশ কিছু লোকের কাছে সহযোগিতা চান বিদ্যালয়টি পরিচালনার জন্য। অনেকেই তাকে সহযোগিতাও করেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অধিদপ্তর নির্ধারিত তহবিলের টাকা দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভালো অনেক শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা না পেয়ে তারা অন্য বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মাসুক আলম বলেন, এ মাসেও বেতন হবে কি-না জানি না। অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মুখের দিকে তাকিয়ে বিদ্যালয় ছেড়ে যেতে পারিনি। কিন্তু এভাবে চলতেও পারছি না। এভাবে কোনো মানুষ চলতে পারে না। তিনি জানান, বিদ্যালয় এভাবে চলতে থাকলে একটি ভালো উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। তিনি এই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তি করে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। সেটি হলে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here