বাল্যবিয়ের ৪ মাসের মাথায় কিশোরীর আত্মহত্যা

0

রাজশাহী নগরীতে বাল্যবিয়ের চার মাসের মাথায় আশা খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর রায়পাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে ওই কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আশা খাতুন ওই এলাকার শফিকুল ইসলামের মেয়ে। রায়পাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো সে। মাদকাসক্ত হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় বছর দুয়েক আগে শফিকুলকে ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তার মা সাগরী বেগম। সেই থেকে মায়ের সঙ্গেই ছিলো আশা। তার বাবা শফিকুল ইসলাম চার মাস ধরে রাজশাহী কারাগারে। অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে কোনো মতে সংসার চালাচ্ছিলেন সাগরী। চার মাস আগে জেলার তানোর উপজেলার নিরব আলী নামের এক যুবকের সঙ্গে তিনিই মেয়ের বিয়ে দেন।

পুলিশের ভাষ্য, রেজিস্ট্রি ছাড়াই ওই কিশোরীর বাল্যবিয়ে হয়েছিল। আর্থিক অনটন এবং মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বাল্য বিয়ে দেন ওই কিশোরীর মা। তবে শুরু থেকেই স্বামীর বাড়ি যেতে আপত্তি জানিয়ে আসছিলো আশা। তাছাড়া তার মানসিক সমস্যা ছিল বলে দাবি করছেন স্বজনরা।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। শোবার ঘরের আড়ায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। এনিয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, কয়েকদিন ধরেই মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর কথা ভাবছিলেন সাগরী। কিন্তু তাতে রাজি হচ্ছিল না মেয়ে। এনিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেও মা-মেয়ের বাদানুবাদ হয়। মেয়েকে বাসায় রেখে সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফিরে শোবার ঘরে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় থানায় খবর দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here